ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাধারণ তথ্য
নামকরণ
অনেকের মতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামকরেণের সাথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের স্থপতি বলে কথিত কাজী সৈয়দ মাহমুদ শাহ (রহঃ) এর নাম জরিত। তিনি ষষ্ঠদশ ও সপ্তদশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে এসেছেন বলে কেউ কেউ অনুমান করেন। এই মতকে ধরে নিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামরণের বয়স সাত থেকে আটশত বছর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামকরণের আগে এই জনপদ কি নামে পরিচিত ছিল তা রহস্যাবৃত। তবে অধ্যাপক হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এক প্রবন্ধে ঐতিহাসিক প্রমান এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব নাম রং শহর উল্লেখ করেছেন। এই রং শহর কিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামাঙ্কিত হল এ সম্পর্কে দুটি জনশ্রুতি প্রচলিত। বাংলাদেশে সেন বংশের শাসনামলে এদেশে কোন ব্রাহ্মণ পরিবার ছিলনা ফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজাঁ পার্বণে অনুষ্ঠান পরিচালনায় অসুবিধা সৃষ্টি হত। এই অসুবিধা দূর করার লক্ষ্যে রাজা বল্লাল সেন কন্যাকুজ্য থেকে বেশ কয়েকটি অভিজাত ব্যাহ্মণ পরিবার এনেছিলেন। ভিন্ন মতে, এদেশে বৃটিশ রাজত্ব্পূর্বকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন সরাইল প্রতাপশালী দেওয়ান পরিবার জমিদাররা অন্যস্থান থেকে কয়েকটি অভিজাত ব্রাহ্মণ পরিবার হিন্দুদের পূজাঁ-পাবর্ণের সুবিধার জন্য এই এলাকায় এনেছিলেন। এই ব্রাহ্মণদের একটি পরিবার রং শহরে (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে) বসবাস করতেন। ব্রাহ্মণের আস্তানা থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামকরেণের ব্যাপারে সমধিক প্রচলিত জনশ্রুতি হল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাজীপাড়া মহল্লায় এক বড় পুকুড়ের পশ্চিম পাড়ে হযরত কাজী সৈয়দ মাহমুদ শাহ (রহঃ) এর মাজার বিদ্যমান। এই আল্লাহর ওলী মোঘল শাসন আমলে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে আসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ব্রাহ্মণরা উক্ত দরবেশের অলৌকিক ক্ষমতায় বিস্ময়াবিষ্ট হন এবং তার প্রতি তাদের বিরোধিতা জনিত অপকর্মের ক্ষমা চেয়ে তারাঁ নবীনগর থানার বিদ্যাকূট গ্রামে চলে যান। বিদ্যকূট যাবার প্রাক্কালে ব্রাহ্মণরা কাজী মাহমুদ শাহ (রহঃ) কে এই মর্মে অনুরোধ করেন যে, দীর্ঘদিন এই রং শহরে তাদের প্রাধান্য ছিল। তাই তিনি যেন এই রং শহরের নামকরণে তাদের স্মৃতিকে সম্পৃক্ত রাখেন। ওলীয়ে কামেল সৈয়দ মাহমুদ শাহ (রহঃ) তাদের অনুরোধ রক্ষা করেন এবং ব্রাহ্মণ বেরিয়ে যাওয়া থেকে ব্রাহ্মণবেড়িয়া আবার ব্রাহ্মণবেড়িয়া থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামকরণ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত সামৃতিসৌধ(অবস্থান : পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া তিতাস গ্যাস ক্ষেত্র (অবস্থান : ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আবিষ্কৃত হয ১৯৬২ সালে।)
উল্লেখযোগ্য দীঘি সাগর দীঘি, কল্যাণ দীঘি, শোকসাগর, গঙ্গাসাগর দীঘি, ধর্ম দীঘি, রাজার দীঘি, ফসলা দীঘি ইত্যাদি।উপজেলা ৮টি। ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল, আশুগঞ্জ, আখাউরা, নাসিরনগর, কসবা, নবীনগর, বাঞ্চারামপুর।
সক্ষম সম্পত্তি ৩৬০৫৮৭ জন।
জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ২.৮%
উপাসনালয় মসজিদ-৩০৩০টি, মন্দির-১৫৮টি, গির্জা-১টি।
পশুপাখি সম্পর্কিত তথ্য পশু চিকিৎসা কেন্দ্র - ৭টি।
গবাদি পশুর খামার ৭৭টি।
হাস-মুরগীর খামার ৫২৮টি।
পশুপাখি কল্যাণ কেন্দ্র ২৪টি।
স্বস্থকেন্দ্র
হাসপাতাল ৩১টি
টিবি ক্লিনিক ১টি
কমিউনিটি ক্লিনিক ২৪৩টি
বেসরকারী ক্লিনিক ১৮টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ
প্রাথমিক বিদ্যালয় ১১৯৭টি
নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫০টি
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৬৮টি
কলেজ ৪১টি
মাদ্রাসা ১২৪টি
মক্তব ২৩১৪টি
জলবায়ু t ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার জলবায়ু সাধারণত আদ্র হলেও নাতিশীতোষ্ণ এবং স্বস্থপ্রদ। বার্ষিক সবোর্চ্চ বৃষ্টিপাত ১১৪.৬৫ ইঞ্চি। সর্বনিম্ন ৫৬.৪৩ ইঞ্চি। গড় বৃষ্টিপাত -৭৮.০৬ ইঞ্চি।
শিল্পের নাম প্রতিষ্ঠাকাল উৎপাদিত সামগ্রী
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোং লিঃ ( তিতাস গ্যাস ফিল্ড) ১৯৬৫ গ্যাস
আশুগঞ্জ তাপ বিদুৎ কেন্দ্র ১৯৬৭ বিদুৎ
জিয়া সার কারখানা ১৯৭৫ ইউরিয়া সার
বিসিক শিল্পনগরী ১৯৮৫ কেমিক্যাল, খাদ্য, বস্ত্র
আরাফাইল মসজিদ(সরাইল), উলচাপাড়া মসজিদ(সদর), কালভৈরব মন্দির(সদর), বাসুদেব মূর্তি(সরাইল), ঐতিহাসিক হাতিরপুল(সরাইল), খরমপুর মাজার(আখাউড়া), কৈলাঘর দূর্ঘ(কসবা), কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ(কসবা), বীরশ্রেষ্ঠ মোসাতফা কামালের কবর(আখাউড়া), সৌধ হিরন্ময়, শহীদ মিনার, তোফায়েল আজম মনুমেন্ট, শহীদ স্মৃতিসৌধ, ভাদুঘর মসজিদ(সদর), মঈনপুর মসজিদ(কসবা), বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রিসেতু(আশুগঞ্জ), বাঁশীহাতে শিবমূর্তি(নবীনগর), আনন্দময়ী কালীমূর্তি(সরাইল) এবং আর্কাইব মিউজিয়াম।
HwZn¨ t ইপমহাদেশের সঙ্গীত ও সংস্কৃতির আদিপীঠস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এখানে হাজার যুগের লোক কাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে লোক মানসের লোকায়ত ঐতিহ্য। আছে ধ্রুপদী সঙ্গীতের নিজস্ব ঘরনা। সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁ, মহর্ষি আনন্দস্বমী, ওস্তাদ আয়াত আলী খাঁ, মহর্ষি মনমোহন দত্ত, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু সহ হাজারো সঙ্গীত সাধকদের মেলা জমেছে এখান। এছাড়া তিতাসের নৌকা বাইচ, সরাইলের হাসঁলী মোরগ, পুতুল নাচ, ভাদুঘরের বান্নি, সার্কাস ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যের অংশ।
ব্যাংকঃ ১২০টি (সরকারী ও বেসরকারী)
ডাকঘরঃ ১৫২টি
ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা ৮টি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হলো:
- আশুগঞ্জ উপজেলা
- আখাউড়া উপজেলা
- কসবা উপজেলা
- নবীনগর উপজেলা
- নাসিরনগর উপজেলা
- বাঞ্ছারামপুর উপজেলা
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা
- সরাইল উপজেলা
১৯৮৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতে উন্নীত হয়। তার আগে এটি কুমিল্লা জেলার একটি মহকুমা ছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্দের ইতিহাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান অনেক। আবদুল কুদ্দুস মাখন সাহেবের মত ব্যক্তিরা এখানে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেন।
বাংলাদেশের পূর্ব-মধ্য জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেই সাথে চট্টগ্রামের সর্ব উত্তরের জেলা। এক সময় এই জেলা বাংলাদেশের সমতট জনপদের একটি অংশ ছিল। ঈসা খান এর বাংলায় প্রথম এবং অস্থায়ী রাজধানী ছিল সরাইল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তরে। কুমিল্লার তিনটি সাব-ডিভিশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৃষ্টি হয় ১৮৬০ সালের বৃটিশ আইনে। ১৮৬৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। মুঘল আমলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মসলিন কাপড় তৈরীর জন্য বিখ্যাত ছিল।
১৯২১ সালে সমগ্র মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবাব সৈয়দ শামসুল হুদা(১৮৬২-১৯২২) এবং ব্যারিষ্টার আব্দুর রসুল(১৮৭৪-১৯১৭) ছিলেন কংগ্রেস তথা ভারত বর্ষের প্রথম সারির এক জন নেতা। উল্লাসকর দত্ত(১৮৮৫-১৯৬৫), সুনীতি চৌধুরী, শান্তি ঘোশ, গোপাল দেব এর মত অনেক ত্যাগী নেতা জন্ম দিয়েছে এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল আখাউড়ায় শহীদ হন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহ হল : সরাইলের জামে মসজিদ (১৬৬২), কালভৈরবের মূর্তি(১৯০০ শতাব্দী, উচ্চতা ২৮ ফুট), কেল্লা শহীদের মাজার (১৮০০ শতাব্দী, খরমপুর), উলচাপাড়া জামে মসজিদ(১৬০০ শতাব্দী), ভাদুঘর শাহী জামে মসজিদ(১৬৬৩ খ্রীষ্টাব্দ)
চিত্তাকর্ষক স্থান
তিতাস নদীর শান্ত প্রকৃতি দেখার মত একটি স্থান। এছাড়া তিতাস গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করার মত একটি স্থান। আশুগজ্ঙের ভৈরব সেতু যা মেঘনা নদীর উপর তৈরী হয়েছে তা যে কারও মনে দোলা দেবে। আরাফাইল মসজিদ(সরাইল), উলচাপাড়া মসজিদ(সদর), কালভৈরব মন্দির(সদর), বাসুদেব মূর্তি(সরাইল), ঐতিহাসিক হাতিরপুল(সরাইল), খরমপুর মাজার(আখাউড়া), কৈলাঘর দূর্ঘ(কসবা), কুল্লাপাথর শহীদ স্মৃতিসৌধ(কসবা), বীরশ্রেষ্ঠ মোসাতফা কামালের কবর(আখাউড়া), সৌধ হিরন্ময়, শহীদ মিনার, তোফায়েল আজম মনুমেন্ট, শহীদ স্মৃতিসৌধ, ভাদুঘর মসজিদ(সদর), মঈনপুর মসজিদ(কসবা), বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য মৈত্রিসেতু(আশুগঞ্জ), বাঁশীহাতে শিবমূর্তি(নবীনগর), আনন্দময়ী কালীমূর্তি(সরাইল) এবং আর্কাইব মিউজিয়াম।